পাবলিক টয়লেটের অভাবে বাইরে পানি পানই বন্ধ করেছেন ঢাকার নারীরা
ডেস্ক রিপোর্ট | ২ জুন ২০২৬
রাজধানী ঢাকায় পাবলিক
টয়লেটের চরম সংকট ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নারীদের বাইরে চলাচল ক্ষেত্রে এক নীরব
স্বাস্থ্যসংকটে রূপ নিয়েছে। পর্যাপ্ত ও নিরাপদ টয়লেটের অভাবে অনেক কর্মজীবী নারী ও
শিক্ষার্থী দিনের দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার সময় পানি পান করা থেকে বিরত থাকছেন। এই
পরিস্থিতি তাদের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
টিউশনি ও পড়াশোনার কাজে
বাইরে থাকা শিক্ষার্থী জাকিয়া জাররিন গণমাধ্যমে জানান যে পরিচ্ছন্ন ওয়াশরুম না
থাকায় দিনের ১০-১২ ঘণ্টা তিনি প্রায়ই পানি পান না করেই পার করেন।
তিনি বলেন, “পাবলিক
টয়লেটগুলো অনিরাপদ ও অপরিচ্ছন্ন। তাই ওয়াশরুমে যাওয়ার প্রয়োজন এড়াতে আমি বাধ্য হয়ে
পানি খাওয়া বন্ধ রাখি। ফলে আমি ডিহাইড্রেশন ও ইউরিন ইনফেকশনের মতো গুরুতর সমস্যায়
ভুগছি।”
কেবল জাকিয়া নন,
গণমাধ্যমকর্মী শেখ সাদিয়া বানুর মতো অনেক কর্মজীবী নারীই জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প
হিসেবে হাসপাতালের টয়লেট ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ
ডা. মুস্তাক হোসেন জানান, দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখা এবং পানি পান না করা
নারীদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
তিনি বলেন, “এর ফলে
মূত্রনালী ও মূত্রথলিতে সংক্রমণ হতে পারে, যা পরবর্তীতে কিডনি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ার
আশঙ্কা থাকে। কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। নারীদের জন্য জনবহুল স্থানে
পর্যাপ্ত ও নিরাপদ টয়লেট ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।”
বর্তমানে ঢাকার দুই
সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১৯৯টি পাবলিক টয়লেট থাকলেও নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা এবং
নিরাপদ ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মহাখালী বাস
টার্মিনালে ‘অনন্যা’ নামে একটি পিঙ্ক টয়লেট চালু করেছে, যা নারীদের দ্বারা
পরিচালিত। সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, এই প্রকল্পের সাফল্য যাচাই করে
ভবিষ্যতে আরও এলাকাভিত্তিক পিঙ্ক টয়লেট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে নগরবাসীর ভাষ্য,
কেবল হাতেগোনা দু-একটি পিঙ্ক টয়লেট দিয়ে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়।
অস্বাস্থ্যকর টয়লেটের বিড়ম্বনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মুক্তি পেতে রাজধানীর
প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নারীবান্ধব পৃথক টয়লেট নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই।
