দুই ঘণ্টায় ওসি-মেজর সরানোর হুমকি এমপি মাসুদের
ডেস্ক রিপোর্ট
পটুয়াখালী-২ (বাউফল)
আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামের (মাসুদ) বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
বাউফল উপজেলার সূর্যমণি
ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গত শনিবার এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ঐ বক্তব্যে তিনি
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বদলি করার বিষয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ
মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান
অতিথির বক্তব্যে এমপি শফিকুল ইসলাম বলেন, “দুই ঘণ্টার মধ্যে ওসিকে চেয়ার থেকে
সরিয়েছি, দুই ঘণ্টার মধ্যে সেনাবাহিনীর মেজরকে চেইঞ্জ করছি এখান থেকে”।
তিনি আরও বলেন, “অনেকে
বলে, ভোটে এমপি হইছেন। আমি বলি, খালি ভোটে এমপি হই নাই, পাওয়ারেও এমপি হইছি।
পাওয়ার দেখাইতে আসবেন না। পাওয়ার দেখাইবে পাঁচ লক্ষ মানুষ”।
নিজের ক্ষমতা ও প্রভাব
সম্পর্কে এমপি বলেন, “শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস, এইটা বাউফলের মানুষকে দেখানোর
দরকার নাই; শেখ হাসিনার কাছে জাইনা নিয়েন”।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের
প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ওখানকার সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসীর কাছে জিজ্ঞেস কইরেন,
শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস”।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে
তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, “উল্টাপাল্টা কথা বইলা মটকা (মাথা) গরম করবেন না। মটকা গরম
করলে সামলাইতে পারবেন না”।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত
আসামী শেখ হাসিনার সরকারের আমলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বিষয়ে তিনি বলেন, রাস্তা-ঘাট ও
সেতু নির্মাণ করলেও মানুষের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত না থাকায় শেখ
হাসিনাকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে।
এ বিষয়ে সোমবার বিকেলে
শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেন, “আমার মরহুম বাবা, শ্বশুর এবং স্ত্রীকে নিয়ে যেভাবে
মিথ্যা ও অশালীন কথাবার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, তা কোনো
সুস্থ মানুষের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন। তাদের উদ্দেশ্য করেই কিছু কথা বলেছি। তবে
অনেক ভালো কথাও বলেছি, তা-ও প্রচার করা উচিত”।
তার ঐ বক্তব্যের ভিডিও
ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের ওপর
রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর এমন প্রকাশ্য ঘোষণা নিয়ে সুশীল সমাজ প্রশ্ন তুলেছে।
