জিয়াউর রহমানকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যায়িত করেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
বিএনপির
প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানকে ‘স্বৈরাচার’ হিসেবে উল্লেখ
করেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
২০২৩ সালে
‘এশিয়ান অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিস’ জার্নালে প্রকাশিত তার লেখা ‘পারভিয়রস অব র্যাডিক্যাল
ইসলামিজম অর ক্যাজুয়ালটি অব কালচারাল ন্যাশনালিজম: সিচুয়েটিং জামায়াত-ই-ইসলামী
ইন কনটেম্পোরারি বাংলাদেশ পলিটিক্স’ শীর্ষক গবেষণা পত্রে এই মন্তব্য করেন তিনি।
গবেষণাপত্রটির
মেথডোলজি সেকশনের ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ শীর্ষক অংশে
(পৃষ্ঠা ৫) ববি হাজ্জাজ লিখেছেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন সামরিক স্বৈরশাসক
জিয়া এবং এরশাদও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছেন।” অর্থাৎ, তিনি জিয়াউর রহমান এবং
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে একই কাতারে রেখে ‘সামরিক স্বৈরশাসক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
লেখকের ভাষ্যমতে, এই দুই শাসকই রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে জামায়াতে
ইসলামীর সমর্থন ব্যবহার করেছিলেন।
ববি হাজ্জাজ
এই বাক্যের সমর্থনে ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান
বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আ. হাকিমের একটি গবেষণাপত্র (‘দ্য ইউজ অব ইসলাম অ্যাজ আ পলিটিক্যাল
লেজিটিমাইজেশন টুল: দ্য বাংলাদেশ এক্সপেরিয়েন্স, ১৯৭২–১৯৯০’) সাইটেশন হিসেবে যুক্ত
করেছেন। তবে পর্যালোচনায় দেখা যায়, অধ্যাপক হাকিমের ঐ গবেষণাপত্রের কোথাও জিয়াউর
রহমানকে ‘স্বৈরাচার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। বরং, তাঁর শাসনব্যবস্থাকে বেশ কিছু কঠোর
রাজনৈতিক পরিভাষা দিয়ে বর্ণনা করেছেন।
লেখক জিয়াউর
রহমানকে ‘রাষ্ট্রক্ষমতার দখলকারী’ (পৃষ্ঠা-১০৭) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং তাঁর সরকারকে
একটি ‘সামরিক সরকার’ (পৃষ্ঠা-১০৭ ও ১০৯) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া, হাকিম উল্লেখ
করেছেন যে জিয়াউর রহমান তৎকালীন বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি ‘কর্তৃত্ববাদী
ব্যবস্থা’ (পৃষ্ঠা-১০৫) প্রবর্তন করেছিলেন এবং ১৯৭৫ সালের অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়কালকে
তিনি একটি ‘সামরিকীকৃত যুগ’ (পৃষ্ঠা-১০৯) হিসেবে
অভিহিত করেছেন।
ফলে এটি
প্রতীয়মান হয় যে গবেষক ববি হাজ্জাজ নিজস্ব বিশ্লেষণ থেকেই জিয়াউর রহমানকে ‘স্বৈরাচার’
আখ্যা দেন।
এদিকে, ববি
হাজ্জাজের আগের গবেষণার তালিকায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর
রহমানকে নিয়ে দুইটি বিশ্লেষণধর্মী গবেষণাপত্র রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বর্তমান
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর করা এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বিএনপি কিংবা সরকার দলীয় পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া
পাওয়া যায়নি।
