মাকে জানিয়ে দেবে বলায় শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামীকে বাঁচাতে সাহায্য করেন স্বপ্না: স্বীকারোক্তিতে সোহেল

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে উঠে এসেছে শিশুটির ওপর চালানো ভয়াবহ নির্যাতন ও হত্যার বিভীষিকাময় বর্ণনা। বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানান, তারা একই ভবনের পাশাপাশি কক্ষে বসবাস করতেন। ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে রামিসাকে দেখে তার মধ্যে বিকৃত যৌন লালসা তৈরি হয়। তিনি দাবি করেন, তখন তিনি ইয়াবার প্রভাবে ছিলেন।


পরে সুযোগ বুঝে শিশুটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে বাথরুমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে স্বীকার করেন তিনি। জবানবন্দি অনুযায়ী, নির্যাতনের পর রামিসা বিষয়টি তার মা–বাবাকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সোহেল। নিজের অপরাধ ফাঁস হওয়ার ভয় থেকে একপর্যায়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। একপর্যায়ে লাশ গুমে সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন রানার স্ত্রী। বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।আদালতে জবানবন্দিতে সোহেল রানা বলেন, তারা একই ভবনে পাশাপাশি কক্ষে থাকতেন। শিশুটির পরিবারসহ তিনটি পরিবারের বাস ছিল একই তলার পাশাপাশি। ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে শিশুটিকে দেখে ইয়াবা আসক্ত সোহেলের মধ্যে বিকৃত যৌন লালসা তৈরি হয়। সুযোগ বুঝে শিশুটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নেয় সে। পরে জোর করে বাথরুমে নিয়ে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়ে ধর্ষণ করে। 


সোহেল জানায়, ঘটনার পর শিশুটি তার মা–বাবাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সোহেল। নিজের অপরাধ ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় একপর্যায়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে স্বামীকে বাঁচাতে লাশ গোপন করার পরিকল্পনা করেন। লাশ গুম করতে তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে ফেলা হয়। এছাড়া তার যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর লাশ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। এ সময় মেয়েটির মা দরজায় নক করছিলেন। তখন মূল আসামি সোহেল যাতে পালাতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতে স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ রাখেন। সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার পর স্বপ্না দরজা খোলেন। পুরো প্রক্রিয়াতেই সোহেলকে সহযোগিতা করেন তিনি।

Popular posts from this blog

বিদেশি ঋণ ছাড়াল ১১৩ বিলিয়ন ডলার

হারতে বসলে ইসরাইলের পক্ষে আমরা যুদ্ধে নামবো: উগান্ডার সেনাপ্রধান

ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট ও আউটরিচ কো-অর্ডিনেটর – ইন্টার্নশিপ