হামে প্রাণহানি ৬৬৬, স্বাস্থ্য খাতের চরম ব্যর্থতায় ঝুঁকিতে শিশুরা

 


ডেস্ক রিপোর্ট

দেশে হাম ও হামের উপসর্গে শিশুদের মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে, যা সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যুতে মোট মৃতের সংখ্যা ৬৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে। কেবল গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৯৫ দিনে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ এই রোগের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫৭৩টি শিশু শুধু হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে, আর নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৩ জন। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, সরকারি ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রোগীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বাস্থ্য খাতকে। ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের মতো বড় বিভাগগুলোতে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি, যা প্রমাণ করে যে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি বা রোগ প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগ কতটা অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও, মহামারি আকার ধারণ করা এই রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের নজরদারির অভাব ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় আজ শিশুদের জীবন দিতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কেন সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত টিকাদান ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদার করা হলো না?

জনমনে প্রশ্ন, সরকারের নীতিনির্ধারকদের এই চরম অবহেলার দায় কে নেবে? শুধু প্রতিবেদনে সংখ্যা বাড়িয়ে জানানোই কি স্বাস্থ্য খাতের কাজ? দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। শিশুদের অকাল মৃত্যু ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি বলে জানান নাগরিকরা। তাদের মতে, দায়সারা গোছের সেবা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

 

Popular posts from this blog

বিদেশি ঋণ ছাড়াল ১১৩ বিলিয়ন ডলার

হারতে বসলে ইসরাইলের পক্ষে আমরা যুদ্ধে নামবো: উগান্ডার সেনাপ্রধান

ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট ও আউটরিচ কো-অর্ডিনেটর – ইন্টার্নশিপ