৮ বছর আগে নিষ্পত্তির পরও ঢাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ফের চৌর্যবৃত্তির তদন্ত


ডেস্ক রিপোর্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক ড. মো. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে ওঠা চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ পুনরায় খতিয়ে দেখতে নতুন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অথচ, একই অভিযোগ আট বছর আগে তার পক্ষেই নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছিল।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম পাঁচ সদস্যের এই কমিটি গঠন করে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেন। 

কমিটির সদস্যরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড মোহাম্মদ ইকরামুল হক (আহ্বায়ক), বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন (সদস্য), ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর মো. ইস্রাফিল প্রাং (সদস্য), ঢাকা মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ডা. মো. মাজহারুল শাহীন ও অভিযুক্ত ড. মো. রিদওয়াদুল হকের একজন মনোনীত প্রতিনিধি।

২০১৮ সালে অধ্যাপক হিসেবে আবেদনের জন্য জমা দেওয়া ড. রিদওয়ানুলের দুইটি গবেষণাপত্রের বিষয়বস্তু প্রায় একই রকম বলে প্রতীয়মান হলে তৎকালীন প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত একটি তদন্ত কমিটি ৪-৫ মাস তদন্ত শেষে তাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করে। এর পরপরই তার স্থগিত থাকা পদোন্নতি কার্যকর করা হয় এবং উক্ত অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে নিষ্পত্তি করা হয়।

২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের অংশ

তবে গত বছর বিএনপি সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’ প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে ড. রিদওয়ানুলের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ তোলে। তৎকালীন প্রশাসন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওসমান ইমামের মতামত চাইলে তিনি অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব সহকারে দেখেন এবং পুনরায় তদন্ত অথবা সিন্ডিকেটে পাঠানোর সুপারিশ করেন। আইন উপদেষ্টার মতামতের ভিত্তিতে বর্তমান প্রশাসন নতুন করে এই কমিটি গঠন করেছে।

এ বিষয়ে ড. রিদওয়ানুল হক বলেন, "এটি একটি নিষ্পত্তি হওয়া অভিযোগ। ২০১৮ সালে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর আমাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছিল। আট বছর পর এই মৃত ইস্যুটিকে পুনরায় টেনে আনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও অনৈতিক।" 

তিনি আরও জানান, তার কাছে নিষ্পত্তির যাবতীয় দাপ্তরিক নথিপত্র রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া একটি বিষয় পুনরায় খোলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এছাড়া সমালোচকরা বলছেন, মূল গবেষণাপত্রটিতে তিনজন লেখক ছিলেন, অথচ শুধুমাত্র ড. রিদওয়ানুলকেই অভিযুক্ত করা হয়েছে, যা ব্যক্তিগত আক্রোশেরই ইঙ্গিত দেয়।

ছবিতে ২০১৮ সালের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের বিষয়ে দেওয়া তদন্ত কমিটির মতামত তুলে ধরা হয়েছে

ড. রিদওয়ানুল বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সুনির্দিষ্ট কোনো নতুন প্রমাণ ছাড়া সিন্ডিকেট অনুমোদিত কোনো সিদ্ধান্ত পুনরায় খতিয়ে দেখার ঘটনা নজিরবিহীন।"

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে বারবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, "আইন উপদেষ্টার মতামতের ভিত্তিতেই কমিটি গঠন করা হয়েছে।"

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ট্রেইনার এবং প্রথম আলো পত্রিকার উপদেষ্টা অধ্যাপক রিদওয়ানুল মনে করেন এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। 

তিনি দাবি করেন, "আমি শিক্ষা নীতি বিষয়ক আলোচনায় বেশ সক্রিয়। হয়তো কিছু সহকর্মী ঈর্ষান্বিত বোধ করছেন। এছাড়া আইবিএর ভেতরে এমন কিছু দুর্নীতিবাজ চক্র রয়েছে যারা প্রতিষ্ঠানটির ক্ষতি করতে চায়।"

 

 

Popular posts from this blog

বিদেশি ঋণ ছাড়াল ১১৩ বিলিয়ন ডলার

হারতে বসলে ইসরাইলের পক্ষে আমরা যুদ্ধে নামবো: উগান্ডার সেনাপ্রধান

ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট ও আউটরিচ কো-অর্ডিনেটর – ইন্টার্নশিপ