স্টারমারের বিদায়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মসনদে কি এবার অ্যান্ডি বার্নহাম?
যুক্তরাজ্যের মধ্য-বামপন্থী লেবার পার্টির অ্যান্ডি বার্নহামের ভূমিধ্বস বিজয় ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। ম্যানচেস্টারের মেয়র পদ ছেড়ে সংসদীয় উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে তিনি মেকারফিল্ড আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন।
এই নির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহাম ৫৫%
ভোট পেয়েছেন, যা ২০২৪ সালের নির্বাচনের তুলনায় ১০% বেশি। তার নিকটতম
প্রতিদ্বন্দ্বী রিফর্ম ইউকে-এর রব কেনিয়ন পেয়েছেন ৩৫% ভোট। এই জয় কেবল একটি আসনের
বিজয় নয়, বরং লেবার পার্টির অভ্যন্তরে নেতৃত্বের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা
হচ্ছে।
নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা
যায়, কনজারভেটিভ পার্টির ভোট ৯% কমে মাত্র ২%-এ নেমে এসেছে, যা তাদের জনসমর্থনের
ধসের স্পষ্ট প্রমাণ। বার্নহাম এই জয়ের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, তিনি নাইজেল
ফারাজের দলকে ঠেকানোর সক্ষমতা রাখেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের
নেতৃত্বে লেবার পার্টির জনপ্রিয়তায় ভাটার টানে যখন দলীয় এমপিরা উদ্বিগ্ন, তখন
বার্নহামের এই সাফল্য তাকে নেতৃত্বের প্রধান দাবিদার হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,
স্টারমারের ওপর আস্থা হারাচ্ছে দলের ভেতরকার একটি বড় অংশ। বার্নহামের এই দাপুটে জয়
এখন লেবার পার্টির এমপিদের নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। ব্রিটিশ
রাজনীতির অলিগলিতে গুঞ্জন, খুব দ্রুতই লেবার পার্টির নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে
যাচ্ছে এবং পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বার্নহামের নাম প্রায় চূড়ান্ত।
প্রসঙ্গত, বার্নহাম এর আগে জেরেমি
করবিনের কাছে নেতৃত্ব নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তৃণমূলের সমর্থন
এবং রিফর্ম ইউকে-এর মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তার ‘কৌশলগত দক্ষতা’ তাকে স্টারমারের
চেয়ে আলাদা অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, লেবার পার্টির এমপিরা বর্তমান
সংকটের মুখে বার্নহামের হাত ধরে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর ঝুঁকি নেয় কি না।
