বর্তমান সংরক্ষিত নারী এমপি ব্যবস্থা কি সত্যিই নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করছে, নাকি এটি শুধু একটি রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা?

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত সকল প্রার্থীকে অভিনন্দন। নারীর অংশগ্রহণ অবশ্যই দেশের রাজনীতির জন্য ইতিবাচক বিষয়। তবে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে—বর্তমান সংরক্ষিত নারী এমপি ব্যবস্থা কি সত্যিই নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করছে, নাকি এটি শুধু একটি রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা?

বাংলাদেশে সংরক্ষিত নারী আসনের ব্যবস্থা ১৯৭২ সালের সংবিধান থেকে চালু রয়েছে। শুরুতে এটি ছিল মাত্র ১০ বছরের জন্য একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা। ধারণা ছিল, এই সময়ের মধ্যে নারীরা মূলধারার রাজনীতিতে আরও শক্তভাবে যুক্ত হবেন, পরে আলাদা কোটা ব্যবস্থার প্রয়োজন থাকবে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও এই ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত ফল দেখা যায়নি।

সংরক্ষিত আসনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নারীদের সরাসরি জাতীয় রাজনীতিতে এগিয়ে আনা। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো যদি সাধারণ নির্বাচনী আসনে নারীদের প্রার্থীই না করে, তাহলে সেই লক্ষ্য কখনো পূরণ হবে না। আজ ২০২৬ সালেও Bangladesh Nationalist Party (BNP)-এর মতো একটি বড় দল ৩০০ সাধারণ আসনের মধ্যে মাত্র ৯ জন নারী প্রার্থী দিতে পেরেছে। এটি দেখায় যে সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা নারীদের বাস্তব রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।

সমস্যার মূল জায়গা হলো রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামো, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যেখানে নারী নেতৃত্বকে এখনও স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা হয় না। ফলে সংরক্ষিত আসন থাকলেও নারীরা মূল ক্ষমতার রাজনীতিতে যথাযথ জায়গা পাচ্ছেন না।

যদি কোটা ব্যবস্থা রাখতেই হয়, তাহলে আরও কার্যকর পথ হতে পারে—প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে সাধারণ আসনে অন্তত ২৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিতে বাধ্য করা। এতে সংরক্ষিত আসনের প্রতীকী রাজনীতি কমবে, এবং জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রকৃত নারী নেতৃত্ব উঠে আসবে।

এমন নিয়ম থাকলে, ৩০০ আসনের নির্বাচনে প্রতিটি দলকে কমপক্ষে ৭৫ জন নারী প্রার্থী দিতে হতো। তখন দলগুলো বাধ্য হতো শুরু থেকেই যোগ্য নারী নেতৃত্ব তৈরি করতে, প্রশিক্ষণ দিতে এবং সাংগঠনিকভাবে নারীদের এগিয়ে আনতে। এভাবেই নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন বাস্তব রূপ পেতে পারে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় এর সফল উদাহরণ ইতোমধ্যে রয়েছে। Union Parishad নির্বাচনে নারী সদস্যরা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। একজন নারী সদস্য ৩টি ওয়ার্ড প্রতিনিধিত্ব করেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে জনগণের রায় নিয়ে নির্বাচিত হন। সংসদীয় রাজনীতিতেও একইভাবে নারীদের সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

একজন নাগরিক হিসেবে তাই বলা যায়—বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন দরকার, কিন্তু তা যেন কাগজে-কলমে নয়, জনগণের ভোটে, বাস্তব প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে হয়। সাইফুল আলম সবুজ ,প্যারিস

Popular posts from this blog

বিদেশি ঋণ ছাড়াল ১১৩ বিলিয়ন ডলার

হারতে বসলে ইসরাইলের পক্ষে আমরা যুদ্ধে নামবো: উগান্ডার সেনাপ্রধান

রানা প্লাজা থেকে পদ্মা ট্র্যাজেডি: নাসিমা আক্তারের হৃদয়বিদারক পরিণতি