ঢাবিতে ছিনতাই ও মারধর করা ছাত্রদলের ৮ কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তিন শিক্ষার্থীকে মারধর ও মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় আট ছাত্রদল কর্মীর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম সাজিদ।ছবি: ঢাকা স্ট্রিম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে তিনজনকে মারধর এবং মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগে ছাত্রদলের আট কর্মীর নাম উল্লেখ করে শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ১৬ জুলাই রাতে সংঘটিত এই ঘটনায় অজ্ঞাত আরও ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম সাজিদ অভিযোগ করেন, ঘটনার রাতে তিনিসহ তিন বন্ধু ভিসি চত্বরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ঢাবির বিজয় একাত্তর, সূর্যসেন, জহুরুল হক ও জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থীদের একটি দল তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীদের মধ্যে আশ শামস, সাদমান সাকিব, হিরা রহমান, অভি রহমান, তামজিদ, শিব্বির আহমেদ, মাসরুর কামাল মাহিন ও সাইফুর রসুল পলাশকে শনাক্ত করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগে বলা হয়, নেতৃত্বদানকারী আল শামস ও তাঁর সহযোগীরা মারধরের পর এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী ফারদিন খানের মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেন। পরে সাজিদকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে নিয়ে মারধর করা হয় এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কৌশলে পালিয়ে সাজিদ শাহবাগ থানায় আশ্রয় নেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, এর আগেও গত মে মাসে একই চক্র তাঁদের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নিয়েছিল। আহত তিন শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
অভিযুক্ত আশ শামস অভিযোগটি ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে বলেন, পূর্বের একটি বিবাদ মীমাংসা হয়ে গিয়েছিল। উল্লেখ্য, এর আগেও শাহবাগ থানায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় শামস অভিযুক্ত।
তবে ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গনেশ চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন জানান, বিষয়টি তারা জেনেছেন এবং যাচাই-বাছাই করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ইসরাফিল রতনও বিষয়টির গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন, “মোরাল পুলিশিং, ছিনতাই বা এই ধরনের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”।
