পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত রিপোর্ট চাপা আট মাস
পিলখানা হত্যাকাণ্ডে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান এবং ভারতের সরাসরি সম্পৃক্ততার অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘সবুজ সংকেত’ এবং একটি সমান্তরাল কমান্ড-কাঠামো তৈরির ভয়ংকর চিত্র উঠে এসেছেগত বছরের ৩০ নভেম্বর তদন্ত কমিশনের ২১১ পৃষ্ঠার রিপোর্ট জমা দেওয়ার আট মাসেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, পিলখানার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করা হয়নি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলাও হয়নি। সরকারের এমন রহস্যজনক নীরবতায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা।
সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর মেজর জেনারেল (অব.) এ এল এম ফজলুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’ তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এ রিপোর্ট জমা দেয়। কমিশন-প্রধান সে সময় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, রিপোর্টটি ‘আনক্লাসিফায়েড’ এবং সরকার তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে পারে।তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারতের সরাসরি সম্পৃক্ততা, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার ‘সবুজ সংকেত’ এবং একটি সমান্তরাল কমান্ড কাঠামো তৈরির ভয়ংকর চিত্র ফুটে উঠেছে। ১১৪ কর্মদিবস ধরে পরিচালিত ওই তদন্তে ৩০০-এর বেশি সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ছিলেনÑশহীদ পরিবারের সদস্য, বেঁচে থাকা সেনা কর্মকর্তা, কারাবন্দি বিডিআর সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ কর্মকর্তা ও সাংবাদিক। তদন্তের স্বার্থে ৩৩ জনের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং ছয় দেশের দূতাবাসসহ জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কাছে তথ্য চাওয়া হয়। ভারতের সম্পৃক্ততা নিয়ে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতেও সুপারিশ করা হয়।